কলকাতার তারাতলায় নির্মাণাধীন গুদামের ছাদ ধসে মহাবিপর্যয়। এখনও পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যু, গ্রেফতার মালিক শম্ভুনাথ বেহেরা। তদন্তে সিট (SIT)। জানুন Taratala warehouse collapse-এর সব শেষ লাইভ আপডেট।
তারাতলা গুদাম বিপর্যয় লাইভ আপডেট ২০২৬ মৃতের সংখ্যা কত?
কলকাতার তারাতলায় ট্রান্সপোর্ট ডিপো রোডের (ব্রেসব্রিজের কাছে) নির্মীয়মাণ গুদাম বা গোডাউন বিপর্যয়ের ঘটনায় উদ্ধারকাজ এখনও জারি রয়েছে। আকাশভাঙা বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে উদ্ধারকাজে কিছুটা বাধা এলেও সেনা, এনডিআরএফ (NDRF) এবং এসডিআরএফ (SDRF) যৌথভাবে কাজ করছে।
সর্বশেষ অফিশিয়াল ও লাইভ আপডেট অনুযায়ী ক্ষয়ক্ষতি এবং মৃতের সংখ্যা নিচে দেওয়া হলো:
📉 মৃতের সংখ্যা এবং হতাহতের বর্তমান আপডেট (Latest Casualties)
মৃতের সংখ্যা: সরকারি এবং পুলিশি সূত্রের শেষ আপডেট অনুযায়ী, এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে (কিছু সংবাদমাধ্যম ও স্থানীয় সূত্রে মৃতের সংখ্যা ১১ বলেও দাবি করা হচ্ছে)। মৃতদের মধ্যে রোহিত চৌধুরী (৪০) এবং কৃষ্ণা চৌধুরী (৩০) নামে দু'জনকে শনাক্ত করা গেছে। শ্রমিকদের বেশিরভাগই বিহারের মুঙ্গেরে বাসিন্দা।
আহত ও চিকিৎসাধীন: ধ্বংসস্তূপ থেকে এখনও পর্যন্ত মোট ২৯ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে ২০ জন শ্রমিক এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার সেন্টারে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদের মধ্যে ২ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক, বাকি ১৮ জন আপাতত বিপদমুক্ত।
🏗️ উদ্ধারকাজ ও প্রশাসনের অ্যাকশন (Live Rescue Updates)
সেনা ও ড্রোনের ব্যবহার: ধ্বংসস্তূপের নিচে আর কেউ আটকে আছেন কি না, তা নিখুঁতভাবে দেখতে ওভারহেড ড্রোন এবং স্নাইফার ডগ (Sniffer Dogs) ব্যবহার করা হচ্ছে। কংক্রিট ও লোহার ভারী বিম কাটার জন্য চলছে ভার্টিকাল ড্রিলিং এবং গ্যাস কাটার।
আর্থিক ক্ষতিপূরণ ঘোষণা:
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় জানিয়েছেন, নিহতদের পরিবারকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ১০ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ১ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল (PMNRF) থেকে মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করেছেন।
তারাতলা দুর্ঘটনা নিয়ে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি, কী জানালেন মুখ্যমন্ত্রী?
কলকাতার তারাতলায় ব্রেসব্রিজের কাছে নির্মীয়মাণ চায়ের গোডাউনের ছাদ ও লোহার শেড ভেঙে পড়ার ঘটনায় রাজ্য রাজনীতি এখন তোলপাড়। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ৫ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে এবং ২০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়েই সমস্ত কর্মসূচি বাতিল করে সশরীরে উদ্ধারকাজ ও পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে হাসপাতালে পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তিনি কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিক বড় পদক্ষেপের ঘোষণা করেন।
মুখ্যমন্ত্রী এই দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে যা যা জানিয়েছেন, তা নিচে তুলে ধরা হলো:
⚠️ ১. বেআইনি ও ত্রুটিপূর্ণ প্ল্যান নিয়ে ক্ষোভ (Faulty Building Plan)
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, প্রাথমিক তদন্ত এবং কলকাতা পুরসভার (KMC) ইঞ্জিনিয়ারদের রিপোর্ট অনুযায়ী, এই গোডাউন বা গুদামটির বিল্ডিং প্ল্যানে মারাত্মক ত্রুটি ছিল। ভুল নকশাকেই এই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য:
> "এই প্রজেক্ট প্ল্যানটি ২০২৬ সালের ১৭ই জানুয়ারি অনুমোদন করা হয়েছিল। শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি পোর্ট অথরিটির (SMPA) লিজ নেওয়া জমিতে শম্ভুনাথ বেহেরা ও তাঁর পার্টনাররা এই কাজ করছিলেন। আমাদের কাছে থাকা প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, একটি সম্পূর্ণ ভুল এবং ত্রুটিপূর্ণ প্ল্যান অনুমোদন করা হয়েছিল।"
🚫 ২. ৩১শে জুলাই পর্যন্ত নতুন নির্মাণকাজে নিষেধাজ্ঞা
দুর্ঘটনার তীব্রতা দেখে এবং মানুষের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে মুখ্যমন্ত্রী একটি অভূতপূর্ব প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন:
কলকাতা পুরসভা (KMC) এবং পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে অনুমোদন পাওয়া এই ধরণের সমস্ত নির্মীয়মাণ বাণিজ্যিক প্রজেক্টের কাজ আগামী ৩১শে জুলাই পর্যন্ত সম্পূর্ণ স্থগিত থাকবে।
বিশেষ করে যে সমস্ত জলাশয় বা ভেড়ি বুজিয়ে নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, সেই সমস্ত প্রজেক্টের একটি কমপ্লিট সেফটি ও লিগ্যাল অডিট করা হবে। অডিট রিপোর্ট সন্তোষজনক হলে তবেই পুনরায় কাজ শুরু করা যাবে।
🚔 ৩. "কাউকে রেয়াত করা হবে না" – কড়া হুঁশিয়ারি
মুখ্যমন্ত্রী ঘটনার পরই স্পষ্ট বার্তা দেন যে, শ্রমিকদের জীবন নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলেছে, তাদের কাউকেই ছেড়ে দেওয়া হবে না। ইতিমধ্যেই পুলিশি তদন্তের পাশাপাশি মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার কড়া ধারায় এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আইন তার নিজের পথেই চলবে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে।
🏥 ৪. আহতদের পাশে দাঁড়ানো ও উদ্ধারকাজের তদারকি
টুইট (X) এবং প্রেস ব্রিফিংয়ে মুখ্যমন্ত্রী গভীর শোকপ্রকাশ করে জানান যে, এই কঠিন সময়ে রাজ্য সরকার নিহত ও আহতদের পরিবারের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছে।
তিনি নিজে এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীন আহত শ্রমিকদের সঙ্গে দেখা করেন এবং তাঁদের বিনামূল্যে সম্পূর্ণ চিকিৎসার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন।
উদ্ধারকাজে গতি আনতে রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (SDRF) পাশাপাশি এনডিআরএফ (NDRF) এবং সেনাবাহিনীকে (Indian Army) নামানো হয়, যার তদারকি করেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ ও অগ্নিমিত্রা পাল।
তারাতলায় মহাবিপর্যয়! গুদাম ধসে মৃত ১১, মধ্যরাতে গ্রেফতার মালিক; তদন্তে বসল বিশেষ 'সিট'
কলকাতার তারাতলা শিল্পাঞ্চলে ঘটে গেল এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা। একটি নির্মাণাধীন গুদামের ছাদ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে এখনো পর্যন্ত ১১ জন শ্রমিকের মৃত্যুর খবর মিলেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকের আটকে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে ইতিমিধ্যেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং পুলিশি তদন্তের জন্য একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT (Special Investigation Team) গঠন করা হয়েছে।
কীভাবে ঘটল এই মর্মান্তিক তারাতলা গুদাম বিপর্যয়?
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তারাতলা থানা এলাকার একটি বেসরকারি কারখানার ভেতরে নতুন একটি বিশাল গুদাম বা গোডাউন তৈরির কাজ চলছিল। বেশ কিছুদিন ধরেই সেখানে দিনরাত এক করে কাজ করছিলেন বহু নির্মাণ শ্রমিক।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, ঘটনার সময় ছাদ ঢালাইয়ের প্রস্তুতি বা সাটারিং-এর কাজ চলছিল। আচমকাই বিকট শব্দ করে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে বহুতলের ওই ভারী ছাদটি। মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকা ধুলোয় ঢেকে যায় এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন সেখানে কর্মরত শ্রমিকরা।
উদ্ধারকাজ এবং বর্তমান পরিস্থিতি (Taratala News Live)
দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় তারাতলা থানার পুলিশ, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (DMRF) এবং দমকলের বেশ কয়েকটি ইঞ্জিন। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয় উদ্ধারকাজ।
হতাহতের সংখ্যা: ধ্বংসস্তূপের তলা থেকে এখনও পর্যন্ত ১১ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
আহতদের চিকিৎসা: আহত অবস্থায় ১৫ জনেরও বেশি শ্রমিককে উদ্ধার করে এসএসকেএম (SSKM) এবং স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার: ধ্বংসস্তূপের নিচে আর কেউ বেঁচে আছেন কি না, তা জানতে আধুনিক গ্যাস কাটার এবং স্নাইফার ডগ ব্যবহার করা হচ্ছে।
অ্যাকশনে মুখ্যমন্ত্রী: কলকাতা জুড়ে নির্মাণকাজে কড়া নিষেধাজ্ঞা
তারাতলার এই দুর্ঘটনার খবর পেয়েই সমস্ত কর্মসূচি বাতিল করে সরাসরি অকুস্থলে পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি উদ্ধারকাজের তদারকি করেন এবং স্পষ্ট জানিয়ে দেন, "এই ঘটনায় যারই গাফিলতি থাকুক না কেন, কাউকে রেয়াত করা হবে না।"
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে রাজ্য প্রশাসন কয়েকটি বড় পদক্ষেপ নিয়েছে
1. তদন্তে বিশেষ সিট (SIT): কলকাতা পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের নিয়ে একটি বিশেষ 'SIT' গঠন করা হয়েছে, যা আগামী ৭ দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেবে।
2. নির্মাণকাজে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা: নিরাপত্তার স্বার্থে এবং সমস্ত নির্মাণাধীন ভবনের ফিটনেস খতিয়ে দেখতে আগামী ৩১শে জুলাই পর্যন্ত কলকাতা পুরসভা এলাকায় সমস্ত বড় ধরণের নতুন নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
3. ক্ষতিপূরণ ঘোষণা: মৃত শ্রমিকদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য এবং আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়ভার নিয়েছে রাজ্য সরকার।
মধ্যরাতে গ্রেফতার গুদামের মালিক শম্ভুনাথ বেহেরা
এই বিপর্যয়ের পেছনে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং বেআইনিভাবে নকশা বহির্ভূত নির্মাণের অভিযোগ উঠছিল প্রথম থেকেই। ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন গুদাম ও কারখানার মালিক শম্ভুনাথ বেহেরা।
অবশেষে কলকাতা পুলিশের বিশেষ দল মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে মধ্যরাতে সল্টলেক এলাকা থেকে অভিযুক্ত মালিক শম্ভুনাথ বেহেরা এবং সংশ্লিষ্ট প্রোমোটারকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুনসহ (IPC 304) একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
রাজনৈতিক তরজা ও ফিরহাদ হাকিমের সই বিতর্ক
এদিকে এই বিপর্যয়কে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সংবাদমাধ্যমের সামনে ওই গুদাম নির্মাণের পুরনো একটি নথির জেরক্স কপি তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, এই বেআইনি গুদাম তৈরির মূল নকশায় সই রয়েছে প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের। তিনি এটিকে "তৃণমূল জমানার দুর্নীতির ফল" বলে কটাক্ষ করেন।
পাল্টা জবাবে প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, "নথিটি সম্পূর্ণ ভুয়ো এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। নিরপেক্ষ তদন্ত হলেই আসল সত্যি সামনে আসবে।"
উপসংহার:
তারাতলার এই গুদাম বিপর্যয় কলকাতার বুকে আবাসন ও বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিল। সাধারণ মানুষের দাবি, টাকার লোভে আর কত নিরীহ শ্রমিকের প্রাণ যাবে? প্রশাসন যেন এই ঘটনার এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো প্রোমোটার বা মালিক মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার সাহস না পায়।
Taratala Warehouse Collapse-এর প্রতি মুহূর্তের লাইভ আপডেট এবং ব্রেকিং নিউজ পেতে আমাদের ব্লগের নোটিফিকেশন অন রাখুন।
ট্যাগস (Tags): Taratala accident today, তারাতলা দুর্ঘটনা, Kolkata warehouse collapse, শম্ভুনাথ বেহেরা গ্রেফতার, শুভেন্দু অধিকারী খবর।

