এবছর পূজা একদিন বেশি অর্থাৎ ৬ দিন ধরে চলবে। ১৭ অক্টোবর ষষ্ঠী শুরু হলেও, ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত সপ্তমীর প্রভাব থাকবে।
দুর্গা পূজা ২০২৬ নির্ঘণ্ট, তিথি এবং ছুটির বিস্তারিত তালিকা
| উৎসবের দিন | তারিখ | দিন |
| মহালয়া | ১০ অক্টোবর | শনিবার |
| মহাসপ্তমী (পুজোর সূচনা) | ১৭ অক্টোবর | শনিবার |
| মহাসপ্তমী | ১৮ অক্টোবর | রবিবার |
| মহাষ্টমী | ১৯ অক্টোবর | সোমবার |
| মহানবমী | ২০ অক্টোবর | মঙ্গলবার |
| বিজয়া দশমী | ২১ অক্টোবর | বুধবার |
কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
কেন ৬ দিনের পূজা: বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত এবং গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা মতে, তিথির বিন্যাসের কারণে এবছর পূজা একদিন বেশি অর্থাৎ ৬ দিন ধরে চলবে। ১৭ অক্টোবর ষষ্ঠী শুরু হলেও, ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত সপ্তমীর প্রভাব থাকবে।
- মহালয়া: ১০ অক্টোবর শনিবার মহালয়ার ভোরে দেবীপক্ষের সূচনা হবে।
- বিজয়া দশমী: ২১ অক্টোবর বুধবার প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে উৎসব সমাপ্ত হবে।
দুর্গা পূজা ২০২৬ কলকাতা ভ্রমণের সেরা গাইড এবং দর্শনীয় প্যান্ডেল
২০২৬ সালে দুর্গাপূজার সময় কলকাতা ভ্রমণের পরিকল্পনা করার জন্য নিচে একটি সংক্ষিপ্ত এবং কার্যকর গাইড দেওয়া হলো। দুর্গাপূজার সময় শহরটি অত্যন্ত জনবহুল থাকে, তাই আগে থেকে পরিকল্পনা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
কলকাতা ভ্রমণের সেরা টিপস (প্যান্ডেল হপিং)
অঞ্চল ভিত্তিক পরিকল্পনা: কলকাতার প্যান্ডেলগুলো মূলত উত্তর ও দক্ষিণ—এই দুই ভাগে ছড়িয়ে থাকে। একদিনে সারা শহর ঘোরার চেষ্টা না করে, একদিনে একটি নির্দিষ্ট এলাকা (যেমন: শুধু উত্তর কলকাতা বা শুধু দক্ষিণ কলকাতা) ঘোরার পরিকল্পনা করুন।
মেট্রো রেল ব্যবহার করুন: পুজোর ভিড় এড়াতে কলকাতা মেট্রো আপনার শ্রেষ্ঠ বন্ধু। অধিকাংশ প্রধান প্যান্ডেল মেট্রো স্টেশনের কাছাকাছি থাকে।
হাঁটার প্রস্তুতি: অনেক সময় প্যান্ডেলের কাছে গাড়ি বা অটো ঢোকে না, তাই কিছুটা হাঁটার জন্য মানসিকভাবে এবং শারীরিকভাবে প্রস্তুত থাকুন। আরামদায়ক জুতো পরুন।
সময় নির্বাচন: ভিড় এড়াতে সকালের দিকে বা গভীর রাতে (মধ্যরাত থেকে ভোর) প্যান্ডেল দর্শন করা সুবিধাজনক।
খাবার ও জল: প্যান্ডেলের বাইরে প্রচুর স্ট্রিট ফুড ও পানীয় পাওয়া যায়, তবে সাথে সবসময় জলের বোতল রাখা ভালো।
দর্শনীয় প্যান্ডেলগুলোর তালিকা
উত্তর কলকাতা (ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি):
- বাগবাজার সর্বজনীন: কলকাতার অন্যতম পুরনো এবং ঐতিহ্যবাহী পুজো।
- কুমোরটুলি পার্ক: প্রতিমা তৈরির কারিগরদের এলাকা হিসেবে বিখ্যাত।
- কলেজ স্কোয়ার: লেকের জলে আলোকসজ্জার প্রতিফলনের জন্য অত্যন্ত সুন্দর।
- শোভাবাজার রাজবাড়ি: সাবেকি বা বনেদি বাড়ির পুজোর আমেজ পেতে এখানে অবশ্যই যাবেন।
- শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব (লেক টাউন): বিশাল আকারের প্যান্ডেল এবং আলোকসজ্জার জন্য এটি পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ।
দক্ষিণ কলকাতা (থিমের লড়াই)
একডালিয়া এভারগ্রিন: ক্লাসিক এবং নান্দনিক প্যান্ডেলের জন্য পরিচিত।
দেশপ্রিয় পার্ক: বিশাল উচ্চতার প্রতিমা এবং অভিনব থিমের জন্য বিখ্যাত।
সুরচি সংঘ (নিউ আলিপুর): শৈল্পিক থিম ও সৃজনশীল কাজের জন্য দারুণ।
মুদিয়ালি ক্লাব ও ত্রিধারা সম্মিলনী: এই প্যান্ডেলগুলো তাদের নান্দনিকতার জন্য নিয়মিত সেরা তালিকার শীর্ষে থাকে।
যোধপুর পার্ক: তরুণ প্রজন্মের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং ভিন্নধর্মী থিমের জন্য পরিচিত।
ভ্রমণের পরিকল্পনা ও বুকিং
আবাসন: পুজোর সময় হোটেল পাওয়া খুব কঠিন। তাই অন্তত ২-৩ মাস আগে থেকে হোটেল বুকিং নিশ্চিত করে রাখুন। মেট্রো স্টেশনের কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করুন।
গাইডেড ট্যুর: যদি কোনো ঝক্কি নিতে না চান, তবে কলকাতা ট্যুরিজম বা বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা পরিচালিত 'দুর্গাপূজা পরিক্রমা' প্যাকেজ বুক করতে পারেন। এতে এসি বাস, গাইড এবং দুপুরের খাবারের ব্যবস্থাও থাকে।
নিরাপত্তার সতর্কতা:
কখনো কোনো অপরিচিত ব্যক্তিকে আপনার গুরুত্বপূর্ণ নথি বা বেশি টাকা দেবেন না।
পুজোর সময় কলকাতার ট্রাফিক পুলিশের গাইড ম্যাপ এবং অ্যাপগুলো অনুসরণ করতে পারেন, যা আপনাকে ভিড় এবং রাস্তার অবস্থা সম্পর্কে রিয়েল-টাইম তথ্য দেবে।
আপনার সাথে একটি পাওয়ার ব্যাংক এবং নগদ টাকা (ছোট নোট) রাখুন, কারণ সব জায়গায় ডিজিটাল পেমেন্ট কাজ নাও করতে পারে।
দুর্গা পূজা ২০২৬ শহর থেকে দূরে সেরা পুজোর আনন্দ কোথায় পাবেন?
কলকাতা ও তার ভিড় থেকে দূরে দুর্গাপূজার আমেজ উপভোগ করতে চাইলে পশ্চিমবঙ্গেই এমন কিছু চমৎকার জায়গা আছে, যেখানে পুজোর সময় ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়। আপনার পছন্দের ধরণ অনুযায়ী কিছু সেরা গন্তব্যের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
ঐতিহ্যের খোঁজে (হেরিটেজ ট্যুর)
কোচবিহার: কোচবিহার রাজবাড়ির দুর্গাপূজার ৫০০ বছরেরও বেশি ঐতিহ্য রয়েছে। যদি আপনি রাজকীয় আমেজ এবং ইতিহাসের সাক্ষী হতে চান, তবে কোচবিহার সেরা বিকল্প। এছাড়া আশেপাশের ডুয়ার্স এলাকায় পুজোর ছুটির আনন্দ দ্বিগুণ করতে জঙ্গল সাফারিতেও যেতে পারেন।
মুর্শিদাবাদ: হাজারদুয়ারি প্যালেসের সামনে পুজোর আড়ম্বর দেখার মতো। মুর্শিদাবাদের প্রতিটি কোণায় জড়িয়ে আছে ইতিহাস, আর এখানকার ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপূজার উৎসব আপনাকে অন্য এক যুগে নিয়ে যাবে।
শান্তি ও সংস্কৃতির আবহে
শান্তিনিকেতন: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তিনিকেতন পুজোর সময় এক অপূর্ব শান্ত রূপ ধারণ করে। বিশ্বভারতী চত্বরে পুজোর আবহে আপনি একদিকে যেমন ঘরোয়া আভিজাত্য পাবেন, তেমনই এখানকার হস্তশিল্প ও স্থানীয় মেলার আনন্দও উপভোগ করতে পারবেন।
নদী ও সীমান্তের বিশেষ অভিজ্ঞতা
টাকী: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ইছামতী নদীর তীরে টাকী অত্যন্ত জনপ্রিয়। বিজয়া দশমীর দিন দুই দেশের বিসর্জনের দৃশ্য—যা ইছামতী নদীতে নৌকায় করে হয়—তা এক অতুলনীয় অভিজ্ঞতা। এটি কলকাতা থেকে কাছেই (প্রায় ৭৫ কিমি), তাই অল্প সময়ের জন্য গেলেও দারুণ লাগবে।
প্রকৃতি ও নিভৃতবাস (অফবিট ডেস্টিনেশন)
বারন্তি (পুরুলিয়া): পাহাড় এবং ঘেরা ঘেরা হ্রদ (মুরাডি লেক) পছন্দ করলে বারন্তি আপনার জন্য সেরা। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং স্থানীয় ছৌ নাচের অনুষ্ঠান পুজোর সময় এক অন্য মাত্রা যোগ করে।
বাগুলি ফার্মহাউস (বাগুলি): যারা খুব বেশি দূরে যেতে চান না, তাদের জন্য এটি কলকাতা থেকে ঘণ্টাখানেকের পথ। এখানকার জমিদার আমলের স্থাপত্য এবং শান্ত পরিবেশ পুজোয় কাটানোর জন্য আদর্শ।
দাওয়াইপানি (দার্জিলিংয়ের কাছে): যদি পাহাড়ে পুজোর ছুটির পরিকল্পনা থাকে, তবে দার্জিলিং শহরের ভিড় এড়িয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘার প্যানোরামিক ভিউ পাওয়ার জন্য দাওয়াইপানি চমৎকার একটি জায়গা।
সমুদ্রের হাতছানি
বাগুড়ান জলপাই (পূর্ব মেদিনীপুর): দিঘা বা মন্দারমণির ভিড় এড়াতে চাইলে এটি একটি দারুণ 'অফবিট' জায়গা। ঝাউবন আর নির্জন সৈকতে পুজোর ছুটি কাটানোর জন্য এটি এখন অনেক পর্যটকেরই পছন্দের তালিকায়।
বাজেটের মধ্যে সেরা কেনাকাটা দুর্গা পূজা ২০২৬ শপিং গাইড
দুর্গা পূজার কেনাকাটা বাঙালির কাছে শুধুই প্রয়োজন নয়, বরং এটি একটি আবেগের উৎসব। বাজেটের মধ্যে থেকে সেরা কেনাকাটা করার জন্য কলকাতার কিছু বিখ্যাত বাজারের তালিকা এবং কিছু জরুরি টিপস নিচে দেওয়া হলো:
বাজেট সাশ্রয়ী সেরা বাজারসমূহ
গড়িয়াহাট (দক্ষিণ কলকাতা): সাশ্রয়ী কেনাকাটার জন্য এটি শহরের প্রধান আকর্ষণ। শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, কুর্তি, অক্সিডাইজড গয়না থেকে শুরু করে ঘর সাজানোর জিনিস—সবই পাবেন এখানে। ফুটপাথের দোকানগুলোতে দারুণ সব সংগ্রহ থাকে, তবে ভালো দাম পেতে অবশ্যই দরদাম করতে শিখতে হবে।
হাতিবাগান (উত্তর কলকাতা): ঐতিহ্যবাহী সিল্ক ও সুতির শাড়ির জন্য এটি সেরা। সাবেকি আমেজের পাশাপাশি এখানে সাশ্রয়ী মূল্যে রেডিমেড পোশাকের বিশাল সমাহার রয়েছে। এটি উত্তর কলকাতার কেনাকাটার জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য স্থান।
নিউ মার্কেট (ধর্মতলা): এখানে আপনি সস্তা থেকে দামী—সব ধরনের জিনিসই পাবেন। ড্রেস মেটেরিয়াল, ব্যাগ, জুতো এবং ফ্যাশন অ্যাকসেসরিজের জন্য এটি আদর্শ। এখানকার অলিগলিতে অনেক গোপন দোকান রয়েছে যেখানে অদ্ভুত সব ডিজাইনের জিনিস পাওয়া যায়।
বড়বাজার (Burrabazar): আপনি যদি পাইকারি দরে জামাকাপড় বা পুজোর কেনাকাটা করতে চান, তবে বড়বাজারের বিকল্প নেই। এটি বিশাল এবং বেশ ভিড়পূর্ণ, তাই সম্ভব হলে স্থানীয় কাউকে সাথে নিয়ে যান। এখানে খুব কম বাজেটে পাইকারি দামে পোশাক পাওয়া সম্ভব।
দক্ষিণাপণ (ধাকুড়িয়া): আপনি যদি হ্যান্ডলুম, খাদি বা শিল্পসম্মত শাড়ি ও কুর্তা পছন্দ করেন, তবে দক্ষিণাপণ সেরা জায়গা। এটি বেশ গোছানো এবং এখান থেকে কেনাকাটা করা অনেক বেশি আরামদায়ক।
সাশ্রয়ী কেনাকাটার জন্য কিছু কার্যকর টিপস
দরদাম করা (Bargaining): গড়িয়াহাট, হাতিবাগান বা নিউ মার্কেটের মতো জায়গায় দরদাম করাটাই মূল কৌশল। দোকানদার যে দাম চাইবে, তার থেকে অনেকটা কমিয়ে বলতে শুরু করুন।
সকালবেলা কেনাকাটা: দুপুরের পর বা সন্ধ্যার দিকে এই বাজারগুলোতে প্রচণ্ড ভিড় হয়। তাই ভিড় এড়াতে এবং দোকানদারদের কাছ থেকে ধৈর্য ধরে জিনিস দেখার জন্য সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে কেনাকাটা করার চেষ্টা করুন।
বড়বাজারের কৌশল: বড়বাজার খুব বড় হওয়ায় সেখানে কেনাকাটা করার আগে একটি তালিকা তৈরি করে নিন। কোন গলিতে কী পাওয়া যায় (যেমন—লেহেঙ্গার জন্য সত্যনারায়ণ মার্কেট বা সুতির শাড়ির জন্য নির্দিষ্ট অংশ) তা আগেভাগে জেনে নিলে সময় ও শ্রম দুইই বাঁচবে।
অফলাইন বনাম অনলাইন: এখন অনেক ছোট বুটিক তাদের নিজস্ব অনলাইন পেজ বা Instagram-এ দারুণ সব কালেকশন নিয়ে আসে। বড় মার্কেটের ভিড় এড়াতে অনেক সময় এগুলো অনেক বেশি সুবিধাজনক এবং পকেটসই হয়।
জুতো ও ব্যাগ: জুতো এবং ব্যাগের জন্য নিউ মার্কেটের ভেতরের দোকান বা ফুটপাথের দোকানগুলো যাচাই করুন। অনেক সময় শাড়ির সাথে মানানসই অক্সিডাইজড গয়না বা ব্যাগ ফুটপাথের দোকান থেকেই অনেক কম দামে কেনা সম্ভব।
দুর্গা পূজা ২০২৬ স্পেশাল বাড়িতেই তৈরি করুন ঐতিহ্যবাহী পুজোর খাবার
দুর্গাপূজায় বাড়িতে ঐতিহ্যবাহী খাবারের আয়োজন করার আনন্দই আলাদা। অতিথি আপ্যায়ন বা পরিবারের সবার জন্য নিচে কিছু বাছাই করা ট্র্যাডিশনাল বাঙালি রান্নার রেসিপি ও আইডিয়া দেওয়া হলো যা পুজোর দিনগুলোতে আপনার মেনুকে করে তুলবে বিশেষ।
অষ্টমীর নিরামিষ স্পেশাল: খিচুড়ি ও লাভড়া
অষ্টমীর দুপুর মানেই ভোগ বা খিচুড়ি। বাড়িতে তৈরি করার জন্য এগুলো সেরা:
সবজি খিচুড়ি: গোবিন্দভোগ চাল এবং ভাজা মুগ ডালের মিশ্রণে তৈরি। এতে ফুলকপি, মটরশুঁটি, আলু এবং টমেটোর ব্যবহার করলে স্বাদ বাড়ে। রান্নায় একটু বেশি ঘি এবং নামানোর আগে সামান্য গরম মশলা ছড়িয়ে দেবেন।
লাবড়া (মিশেলি সবজি): সব ধরণের শীতকালীন সবজি দিয়ে তৈরি এই পদটি খিচুড়ির সাথে অপরিহার্য। এতে পাঁচফোড়ন এবং শুকনো লঙ্কার ফোড়ন ব্যবহার করলে আসল স্বাদ পাওয়া যায়।
সাথে পরিবেশন: বেগুন ভাজা, আলু ভাজা এবং বড়া (ডালের বড়া বা নারকেলের বড়া) দিয়ে থালিটি সাজান।
সাবেকি আমিষ পদ (নবমী স্পেশাল)
নবমীতে বাড়িতে মাংসের আয়োজন বাঙালির চিরকাল প্রিয়।
মাংসের ঝোল (আলু দিয়ে): খাসির মাংস বা চিকেন—যেটাই হোক, তাতে বড় বড় টুকরো করে কাটা আলু এবং ঝোলে একটু পাতলা ভাব থাকলে সেটিই ট্র্যাডিশনাল। আদা-রসুন বাটা, পেঁয়াজ এবং সরষের তেলের সঠিক ব্যালেন্সই আসল স্বাদের চাবিকাঠি।
পোলাও: বাসমতী চালের ঝরঝরে বাসন্তী পোলাও। তাতে কিশমিশ এবং কাজু বাদাম দিতে ভুলবেন না। পোলাওয়ের সাথে মাংসের ঝোল বা আলুর দমের কম্বিনেশন জাস্ট জমে যাবে।
মিষ্টিমুখ ছাড়া পুজো অসম্পূর্ণ
পুজোয় বাড়িতেই খুব সহজে তৈরি করা যায় এমন কিছু মিষ্টি:
ছানার পায়েস: সাধারণ পায়েসের বদলে এবার বানিয়ে ফেলুন ছানার পায়েস। দুধ ঘন করে তাতে ছানার ছোট ছোট বল দিয়ে এটি তৈরি হয়। এটি অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর এবং সুস্বাদু।
নারকেলের নাড়ু: গুড় ও নারকেলের এই সনাতন মিষ্টি বাড়ির বড়দের ভীষণ পছন্দের।
পাটিসাপটা: পুজোর সকালে নাস্তায় বা বিকেলের জলখাবারে খোয়া ক্ষীর বা নলেন গুড়ের পুর ভরা গরম গরম পাটিসাপটা দারুণ লাগে।
পানীয় ও সাইড ডিশ
আমসত্ত্ব-খেজুরের চাটনি: পাঁপড় ভাজা আর আমসত্ত্ব-খেজুরের চাটনি ছাড়া বাঙালির লাঞ্চ বা ডিনার শেষ হয় না।
ঘোল বা ছাঁচ: অনেক সময় মশলাদার খাওয়ার পর হজমে সাহায্য করতে বাড়িতেই দই, বিট নুন এবং পুদিনা পাতা দিয়ে তৈরি ঠান্ডা ঘোল পরিবেশন করতে পারেন।

